নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবারের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বিএনপির লোকজন দেখাশোনা করছে এবং বিদেশে টাকাও পাঠাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক ও নিহত ত্বকীর পিতা রফিউর রাব্বি।
বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নগরীর আলী আহাম্মদ চুনকা নগর পাঠাগার ও মিলনায়তনে ত্বকী হত্যার ১৬০ মাস উপলক্ষে আয়োজিত আলোক-প্রজ্বালন কর্মসূচিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।
রাব্বি বলেন, “দুই বছর আগে এই জুলাই মাসে ৩৮ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল; এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রয়েছে পাঁচ জন। ১৪০০ থেকে দুই হাজার ছাত্র জনতাকে হত্যা করেছিল। নারায়ণগঞ্জে যে ওসমান পরিবার হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তারা ত্বকীকে হত্যা করেছিল। শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে সে ঘাতকদের রক্ষার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তার শেষ রক্ষা হয় নাই, পালাতে হয়েছে।”
“ওসমান পরিবারের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এখন বিএনপির কতিপয় লোকেরা পরিচালনা করছে, তারা সে টাকা বিদেশে ঘাতকদের পাঠাচ্ছে। ঘাতকরা টাকা দিয়ে দেশে স্বৈরাচারের পক্ষে মিছিল করাচ্ছে। ওসমান পরিবারের লুটপাটের, চাদাবাজির সকল ক্ষেত্র এখন বিএনপির দখলে। তারা দেদারসে পরিবহন, হাটবাজার, ঘাট, বিভিন্ন স্ট্যান্ড সমস্তকিছু থেকে চাদা নিচ্ছে। প্রশাসন-পুলিশ জানলেও কোন ব্যবস্থা নেই,” যোগ করেন তিনি।
রফিউর রাব্বি বলেন, “অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশ এমন হওয়া কথা ছিল না। আমরা এক দখলবাজকে হটিয়ে আরেক দখলবাজ চাই নি। আমরা ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়েছি, বৈষম্যের অবসান চেয়েছি, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা চেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা এখনো এই সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই। তাই ত্বকী হত্যা বিচার চাই। সাগর-রুনী, তনু, নারায়ণগঞ্জের আশিক, চঞ্চল, বুলু, মিঠু সহ চব্বিশের ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের সকল শহীদের বিচার চাই।”
সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থ’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দীনা তাজরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিশু সংগঠক রথীন চক্রবর্তী, সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্য সচিব কবি সাংবাদিক হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাদারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু, ন্যাপ জেলা সভাপতি এড. আওলাদ হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসেন, সামাজিক সংগঠন সমমনার সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাসদের জেলা সংগঠক প্রদীপ সরকার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরীর শায়েস্তা খাঁ রোডের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। দু’দিন পর ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে ত্বকীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

