নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ ও কাশীপুর অঞ্চলে আলোচিত ব্যক্তি সাব্বির হোসেন শহীদ ও তার সহযোগীদের ব্যবহৃত বলে অভিযোগ থাকা একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে কাশীপুরের তাতীপাড়া এলাকায় জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ক সার্কেল)-এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্থান ত্যাগ করায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, শহীদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান শেষে স্থানীয়দের একটি অংশ অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় অভিযুক্তরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের দাবি, এমন ঘটনা বারবার ঘটায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
এর আগে গত ১২ জুলাই জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সভায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন কাশীপুর এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সভায় শহীদ ওরফে “ডাকাত শহীদ”-এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এরপর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদের সমর্থকদের মিছিল এবং সংসদ সদস্যকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে সম্প্রতি ট্রাকচালক ও ট্রাক মালিক রাশেদ অভিযোগ করেন, তাকে অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তিনি পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পান বলে দাবি করেন। এ ঘটনায় শহীদের কয়েকজন অনুসারীর বিরুদ্ধে তার অভিযোগ রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিতাইগঞ্জ ট্রাকস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে কাশীপুর, বাবুরাইল, খিলমার্কেট, বাংলাবাজার, হোসাইনীনগর, হাটখোলা, আমবাগান, চৌধুরীবাড়ি, শহীদনগর, গোগনগর, পাইকপাড়া, নামাপাড়া, শাসনগাঁও, ভোলাইল ও পঞ্চবটি পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

