নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফেসবুকে ছবি শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে মোহাম্মদ আসাদুল ইসলাম (৩২) নামে এক বিএনপি কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মনিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত আসাদুল বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহত আসাদুল ইসলাম সিদ্ধিরগঞ্জের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আইলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত খলিল বেপারী। তিনি নিজেকে বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি প্রতিষ্ঠানে ডেইলি লেবার হিসেবে কাজ করেন বলে জানান তিনি।
আসাদুলের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নেতা মনির তাঁকে মারধর ও ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি ফেসবুকে বিএনপি ও দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীর ছবি শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
আসাদুল বলেন, তিনি নিয়মিত ফেসবুকে বিএনপির বিভিন্ন নেতাকর্মীর ছবি শেয়ার করেন। সম্প্রতি মনির তাঁকে প্রশ্ন করেন, কেন তাঁর এবং অন্য কয়েকজন নেতার ছবি ফেসবুকে শেয়ার করা হয়নি। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির পর শনিবার তাঁকে একটি দোকানের ভেতরে ডেকে নিয়ে মোবাইল ফোনে থাকা ফেসবুকের ছবি ও পোস্টগুলো দেখতে চান মনির।
আসাদুলের দাবি, সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মনির তাঁকে ঘুষি ও চড় থাপ্পড় মারেন। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পরে আহত অবস্থায় আসাদুলকে নারায়ণগঞ্জের খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক এক্সরে করার পরামর্শ দেন। তবে আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করাতে পারেননি বলে জানান তিনি।
আসাদুল আরও অভিযোগ করেন, মারধরের পর তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমানে খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আসাদুল নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা মনিরের বক্তব্য জানতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি স্বীকার করি, ওকে মাত্র দুটি চড় থাপ্পড় মেরেছি। বলেছি, আমার ছবি এডিট করে কেন ফেসবুকে দিয়েছিস। এ বলেই দুটি চড় মেরেছি আমি।”
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, “এ বিষয়ে থানায় কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আহত আসাদুল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

