নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার নাসিক ২২ নম্বর ওয়ার্ডের শিশুবাগ এলাকায় আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় একটি পৈতৃক বাড়ি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর হান্নান ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে বাড়ির মালিকের পরিবারের সদস্যদের মারধর, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শিশুবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন বাড়ির মালিকের বড় মেয়ে বিউটি আক্তার।
বিউটি আক্তারের অভিযোগ, তার সৎ মা সালমা বেগমের পক্ষ নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর হান্নান ৮ থেকে ১০ জন সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে সালমা বেগমকে রেখে তারা বাড়ির দখল নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিউটি আক্তার বলেন, “হান্নান ও তার সঙ্গে থাকা বাড়ৈয়পাড়ার বাসিন্দা শাহজাহান, সোনাকান্দার সাবেক কাউন্সিলর মুরাদ, সালেনগরের বাসিন্দা জামানসহ কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। আমরা ও আমার বোন বাধা দিলে তারা আমাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে আমার জামাকাপড় ছিঁড়ে যায় এবং শরীর ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত লাগে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার একপর্যায়ে কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই পুলিশ এসে তার বোনকে থানায় নিয়ে যায়। পরে রাত ২টা পর্যন্ত তাকে থানায় আটক রাখা হয় বলে দাবি করেন বিউটি আক্তার।
তার ভাষ্য, বাড়িটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষ কীভাবে জোরপূর্বক বাড়ির দখল নিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিউটি আক্তার বলেন, “আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হান্নান ও তার সহযোগীরা যেকোনো সময় আমাদের ওপর আবারও হামলা করতে পারে। আমাদের কোনো ক্ষতি হলে হান্নান ও তার সহযোগীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসনকে দায়ী থাকতে হবে।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, পরিবারের নিরাপত্তা এবং আইনগত প্রতিকার দাবি করেন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানান।
অভিযোগের বিষয়ে সাবেক কাউন্সিলর হান্নানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমরা যতটুকু জানি, যার বাড়ি তিনিই দখলে নিয়েছেন। আমরা সঙ্গে ছিলাম।”
তবে বাড়িটি নিয়ে আদালতে চলমান মামলার বিষয়ে এবং পুলিশের সহযোগিতার অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্যে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় বাড়িটির দখল পরিবর্তন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

