নারায়ণগঞ্জে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক আশ্রয় প্রশ্রয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ও ছাত্রদলের একটি অংশ অস্বস্তিতে পড়ে, অথচ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে স্থান দিতে তাদের কোনো সংকোচ নেই।
রোববার (২ আগস্ট) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে আবদুল্লাহ আল আমিন এসব কথা বলেন।
স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললেই বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাদের একাংশের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অথচ ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের বাস ও টেম্পুস্ট্যান্ড, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তা নগরবাসীর অজানা নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ফতুল্লায় একটি গার্মেন্টসে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে পুলিশের মামলায় গ্রেপ্তার এবং দল থেকে বহিষ্কৃত একজনকেও নেতা হিসেবে মেনে নিতে তাদের আপত্তি নেই। একইভাবে ঝুঁট ব্যবসার দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান না নিয়ে বরং যারা প্রতিবাদ করে তাদেরই সমালোচনা করা হচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল আমিন অভিযোগ করেন, চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত কিংবা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানদেরও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললেই তা অনেকের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় শেখ হাসিনাকে সমর্থন দেওয়া এবং গণআন্দোলনকে ‘তাণ্ডব’ আখ্যা দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কথা বললেও আপত্তি ওঠে। একইসঙ্গে তোলারাম কলেজ ছাত্রদলের এক নেতাকে এমন একজনের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীকে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ীকে মাদক ব্যবসায়ী, আওয়ামী লীগের লোককে আওয়ামী লীগের লোক এবং ফ্যাসিস্টের দোসরকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলতেই হবে। এতে কারও গায়ে লাগলে আগে নিজেদের সংশোধন করা উচিত।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন আবদুল্লাহ আল আমিন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ১৭টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল, তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন, রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়ে ডান হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাবঞ্চিত ছিলেন। এরপরও তিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে। তবে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো ব্যক্তি বা দলের অপকর্মের বিরুদ্ধেই তিনি ভবিষ্যতেও সোচ্চার থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন নিজেই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে এসব তথ্য, অভিযোগ ও বক্তব্য প্রকাশ করেছেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

