নারায়ণগঞ্জে এমপির পিএসের নাম ভাঙিয়ে ৫০০ লিটার অকটেন দাবি, পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে এমপির পিএসের গাড়ির জন্য মাসে বিনামূল্যে ৫০০ লিটার অকটেন দাবি এবং মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এক কর্মকর্তাকে চাকরি ছাড়তে চাপ দেওয়ার অভিযোগে রাশেদ আহম্মেদ (৫৪) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, এমপির নাম ব্যবহার করে তেল দাবি করার অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোডের মণ্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশেদ আহম্মেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি রাত ৮টার দিকে নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী।
পুলিশ জানায়, রাশেদ আহম্মেদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপোর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবর রহমান।
মামলার এজাহার ও পুলিশের তথ্যমতে, রাশেদ আহম্মেদ ওই কর্মকর্তার কাছে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএস) ব্যবহৃত গাড়ির জন্য প্রতি মাসে বিনামূল্যে ৫০০ লিটার অকটেন সরবরাহের দাবি করেন।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার অকটেন ১৪৫ টাকা হিসাবে ৫০০ লিটার অকটেনের মূল্য দাঁড়ায় ৭২ হাজার ৫০০ টাকা।
তবে মেঘনা ডিপো থেকে বিনামূল্যে এত পরিমাণ অকটেন সরবরাহ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হলে রাশেদ বিভিন্ন সময় ওই কর্মকর্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে রাশেদ আহম্মেদ সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল মেঘনা ডিপোর সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. মাহবুবর রহমানের কার্যালয়ে অনধিকার প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি পুনরায় প্রতি মাসে ৫০০ লিটার অকটেন সরবরাহের জন্য চাপ দেন।
কর্মকর্তা বিনামূল্যে অকটেন দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাশেদ ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
পুলিশের যাচাইয়ে বেরিয়ে আসে ভিন্ন তথ্য
নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, গ্রেপ্তার রাশেদ আহম্মেদকে মামলার তদন্তের স্বার্থে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যের পিএসের গাড়ির জন্যই অকটেন চাওয়া হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাশেদ আহম্মেদ দাবি করেছিলেন যে নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের পিএসের গাড়ির জন্য তিনি তেল চেয়েছিলেন।
তবে পুলিশ বিষয়টি যাচাই করে জানতে পেরেছে, তিনি ভুয়া তথ্য ও নাম ভাঙিয়ে ওই তেল দাবি করেছিলেন। সংসদ সদস্যের পিএসের গাড়ির জন্য তেল প্রয়োজন, এমন দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও জানান তিনি।
নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনায় ব্যবস্থা
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের রাজনৈতিক সচিব খাইরুল ইসলাম সজিব বলেন, বিভিন্ন সময় তাঁদের নাম ভাঙিয়ে অনেকে চাঁদাবাজির চেষ্টা করছেন। এসব ঘটনায় তাঁরা বিব্রত।
সম্প্রতি মেঘনা পেট্রোলিয়ামে তাঁদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির চেষ্টা করার বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেউ তাঁদের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে দ্রুত তাঁদের আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের এই তৎপরতায় অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট, পরিচয় বা প্রভাবশালী কারও নাম ভাঙিয়ে অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলেও পার পাওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই এখন পুলিশের লক্ষ্য।

