বিয়ে পবিত্র বন্ধন। ইসলাম বিয়েকে সহজ করেছে। তবে বিয়ে গোপন রাখার সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করেনি। বরং বিয়ে প্রকাশ করা, সমাজকে জানানো এবং ওয়ালিমার মাধ্যমে বৈধ সম্পর্কের ঘোষণা দেওয়াকে সুন্নাহ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা বিয়ের ঘোষণা দাও।’ (সুনান তিরমিজি)
তবে সব ধরনের গোপন বিয়ের হুকুম এক নয়। যদি শরিয়তের সব শর্ত পূরণ করে, অর্থাৎ ইজাব-কবুল, সাক্ষী ও অন্যান্য আবশ্যক বিষয় সম্পন্ন করে বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে শুধু পরিবার বা সমাজকে না জানানোয় বিয়ে বাতিল হয়ে যায় না। হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ ফকিহের মতে, এমন বিয়ে সহিহ। তবে অকারণে দীর্ঘদিন গোপন রাখা সুন্নাহর পরিপন্থী এবং অনেক ক্ষেত্রে তা নানা অনিষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
অন্যদিকে সাক্ষী ছাড়া ও শরয়ি বিধান উপেক্ষা করে গোপনে তথাকথিত বিয়ে করা ইসলামি শরিয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া কোনো বিয়ে নেই।’ (সুনানে বাইহাকি)
বিশেষ করে দ্বিতীয় বিয়ে গোপন রেখে স্ত্রী বা সন্তানের অধিকার নষ্ট করা, প্রতারণা করা কিংবা ভবিষ্যতে বিয়ে অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি করা মারাত্মক অন্যায়। ইসলামে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও তা ন্যায়বিচার, সততা ও দায়িত্বশীলতার শর্তসাপেক্ষ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যদি তোমরা আশঙ্কা করো যে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তবে একজনেই সীমাবদ্ধ থাকো।’ (সুরা নিসা ৩)

