রাইডস, নৌকা ও বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের
ডেস্ক রিপোর্ট: নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত সিটি পার্ক, যা একসময় ‘শেখ রাসেল পার্ক’ নামে পরিচিত ছিল, নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা, ছিনতাই ও মাদকসেবীদের আনাগোনার অভিযোগে পার্কটির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, পার্কে নতুন করে বিভিন্ন রাইডস স্থাপনের পাশাপাশি লেকে নৌকা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কাজের পর পার্কের চারপাশে বাউন্ডারি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে বাড়তি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সিটি পার্কে ছিনতাই ও মাদকসেবীদের আনাগোনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ ও ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়েছে। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা জামিনে বেরিয়ে আবারও অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ অবস্থায় পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একসময় পার্কের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত জনবল থাকলেও ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তাকর্মীদেরও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, “সিটি পার্কের নিরাপত্তা জোরদারের কথা আমরা ভাবছি। তার আগে এখানে রাইডস বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি লেকে নৌকা নামানো হবে। এসব কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর পুরো পার্কে বাউন্ডারি দেওয়া হবে, যাতে বাইরে থেকে অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়।”
তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি আমাকে জানানো হয়েছে, সেখানকার একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকেও ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছে ছিনতাইকারীরা। বিষয়গুলো আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। পাশাপাশি বর্তমান পুলিশ সুপার যেভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন, তাতে আমরা আশা করছি আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পুরো শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের আনাগোনাও কমে আসবে। এর পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব উদ্যোগও থাকবে।”
সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সিটি পার্ক মূলত গণপরিসর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পার্কের একটি অংশকে কাজে লাগিয়ে আয় করার ব্যবস্থা করা এবং সেই আয় থেকে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যয় বহনের চিন্তাভাবনা চলছে।
তবে রাইডস বা অন্যান্য বিনোদন সুবিধার জন্য দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি। উন্মুক্তভাবে সবার ব্যবহারের জন্য রাইডস স্থাপনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রস্তাব ও সমীক্ষা পর্যালোচনা করে পার্কের উন্নয়ন, আয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে একসময়কার জনপ্রিয় এই পার্কে আবারও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ ফিরবে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।

