নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) একটি মামলায় নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন বহাল রাখেন।
জামিনের পর ডা. আইভীর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু একাধিক বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “আমি মেয়র আইভীকে প্রশ্ন রাখতে চাই, আপনি যদি হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিপক্ষে হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার সরকার এবং আপনি মেয়র থাকাকালীন নারায়ণগঞ্জবাসীকে শান্তি দিতে পেরেছেন? যারা হত্যা, গুম ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদের হাত থেকে কি জনগণকে মুক্ত করতে পেরেছেন?”
টিপু বলেন, “অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, দুজনই সমান অপরাধী। ১৬ বছর ফ্যাসিস্টের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, তাই আপনিও ফ্যাসিস্ট। আপনি যতই নিজেকে হত্যা, গুম ও খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করুন না কেন, আপনার দল এবং দলের নেতাদের কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে আলাদা করতে পারবেন না।”
তিনি আরও বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আপনাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে আপনার সমর্থকরা পুলিশের কাজে বাধা দিয়েছে। এখন আইনগত প্রক্রিয়া চলবে। যে কেউ বিচারের মুখোমুখি হতে পারে। নির্দোষ হলে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মুক্তি পাবেন, আর দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে।”
মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার প্রসঙ্গে টিপু বলেন, “টেবিলে বসে বড় বড় কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবে মাদক, চাঁদাবাজি ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।”
আওয়ামী লীগের রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তবে দল ও সরকার যদি ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে। কিন্তু যতদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন তারা কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।”
ডা. আইভীর নির্বাচনী সাফল্য নিয়েও মন্তব্য করেন টিপু। তিনি দাবি করেন, “আইভী যতবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, প্রতিবারই বিএনপির নেতাকর্মী ও ভোটারদের সমর্থন পেয়েই হয়েছেন। বিএনপির ভেতরের কিছু বেঈমান ও কুলাঙ্গারের কারণে তিনি বারবার জয়ী হয়েছেন। ব্যক্তিগত ইমেজ বা আওয়ামী লীগের ভোটে তিনি কখনো মেয়র হতে পারেননি, ভবিষ্যতেও পারবেন না।”
তিনি আরও দাবি করেন, “২০০৪ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও বিভিন্ন অপকৌশলের সুযোগ নিয়েই আইভী বিজয়ী হয়েছেন।”
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।

