নারায়ণগঞ্জে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আবাসিক ও শিল্প গ্রাহকেরা। মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে কিছু সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও বুধবার রাত ৮টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের দেখা মেলেনি। এতে আবাসিক গ্রাহকদের রান্নাবান্না ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন।
নগরীর আল্লামা ইকবাল রোডের গলাচিপা এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির জানান, তাঁদের বাসার চুলায় সামান্য পরিমাণ গ্যাসও নেই। বাধ্য হয়ে বুধবার সকালে চাষাঢ়া বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে সিমেন্টের চুলা কিনে এনে লাকড়ি দিয়ে রান্না করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, সাধারণত এসব চুলা ৫০০ টাকা করে বিক্রি হলেও বুধবার ৭০০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকটে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি চরম বিপাকে পড়েছেন শিল্পকারখানার মালিক ও শ্রমিকেরাও। নগরীর পুলিশ লাইন্স এলাকার রহমান গার্মেন্টের সিনিয়র ডিজিএম শিহাব উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিন কোনো রকমে তাঁদের ডাইং সেকশন চালু রাখা হয়েছিল। তবে বুধবার গ্যাস না থাকায় ডাইং সেকশন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, গেঞ্জির থান কাপড়ের মজুতও শেষ হয়ে আসছিল। বুধবার কোনো মজুত না থাকায় পুরো গার্মেন্টস বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক দিনভর কাজ করতে পারেননি।
তিনি আরও জানান, নরসিংদীতে তাঁদের মাকসুদা স্পিনিং মিল গ্যাসচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। গ্যাস সংকটের কারণে গত চার দিন ধরে সেখানকার উৎপাদনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ওই কারখানায় প্রায় ১ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করেন।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে এহসান শামীম বলেন, নারায়ণগঞ্জের প্রায় সব কারখানার ডাইং সেকশন বুধবার গ্যাসের অভাবে বন্ধ ছিল। যেসব কারখানায় সুইং বা অন্যান্য সেকশনে আগের কাজের মজুত ছিল, সেগুলো কোনোভাবে চালানো হয়েছে। তবে যেসব কারখানায় কাজের মজুত ছিল না, সেগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এভাবে চলতে থাকলে বায়াররা আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। এতে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ফজলে এহসান শামীম আরও বলেন, গ্যাস টার্মিনালের ত্রুটি সারাতে পুরো গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা শুনেছি। এ ধরনের কাজ করার প্রয়োজন হলে অন্তত সাত দিন আগে শিল্প মালিকদের জানানো উচিত। তাহলে তাঁরা আগেভাগে উৎপাদন পরিকল্পনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
এদিকে গ্যাস সংকটের কারণ জানতে তিতাস গ্যাসের ডিজিএম মাহমুদুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের ডিএমডি রাজিব কুমার সাহার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। পরে রাজিব কুমার সাহা এসএমএসের মাধ্যমে জানান, এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আবাসিক গ্রাহকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জের শিল্প খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সমকাল

