নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজ থেকে আনা মোরগ পোলাও খাওয়ার পর আইইটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অন্তত ১৪ থেকে ১৫ জন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থদের মধ্যে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকও রয়েছেন।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খাবার খাওয়ার পর তাঁদের জ্বর, বমি, পাতলা পায়খানা ও শরীর ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অসুস্থতার কারণে গত দুই দিন ধরে অনেক শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুবল দেবনাথ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক সতর্কবার্তায় তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই দোকানের খাবার গ্রহণে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানান। তাঁর দাবি, ওই খাবার খেয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের সদস্যরাও অসুস্থ হয়েছেন।
সুবল দেবনাথ জানান, সম্প্রতি বড় অঙ্কের বকেয়া টাকা পাওয়ার পর সহকর্মীদের আবদারে তিনি খাবারের আয়োজন করেন। রোববার দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের জন্য ৫০ প্যাকেট মোরগ পোলাও কেনা হয়। চাষাঢ়ার বাগে জান্নাত মসজিদ সংলগ্ন সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজ থেকে খাবারগুলো কিনে আনেন বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ইসমাইল।
সুবল দেবনাথ বলেন, ‘খাবার খাওয়ার পর প্রায় সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমার স্ত্রী, এমনকি আমার বাচ্চাও অসুস্থ হয়েছে। ভাগ্যক্রমে আমি অসুস্থ হইনি। আমার পক্ষ থেকে সবাইকে ট্রিট দিয়ে এখন সবাই অসুস্থ। এতে আমি গিল্টি ফিল করছি। উপায় না দেখে বিষয়টি ফেসবুকে সতর্কবার্তা হিসেবে দিয়েছি।’
তিনি জানান, মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের দিবা শাখায় ২৫ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র সাতজন উপস্থিত ছিলেন। অসুস্থ শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন মোশারফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী, আলমগীর কবির, রেজাউল হক, আবু সাঈদ আরমান, ফারহানা হাফিজ, আমেনা বেগম ও আজমেরী সুলতানাসহ আরও কয়েকজন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান গাজী বলেন, ‘অনেকটা মহামারির মতো অবস্থা। বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছি। ফুড পয়জনিং হয়েছে। দিবা শাখার খাবার খেয়েছিলাম বেলা তিনটার দিকে।’
সুবল দেবনাথ জানান, এ ঘটনায় তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করবেন।
বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ইসমাইল জানান, অসুস্থতার বিষয়টি জানাতে তিনি সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজে গিয়েছিলেন। দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ব্যক্তিকে বিষয়টি জানালে তিনি এমন হওয়ার কথা নয় বলে জানান এবং রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসা করে খোঁজ নেওয়ার কথা বলেন।
অভিযোগের বিষয়ে সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউজের ব্যবস্থাপক বাবুল মিয়া বলেন, তাঁদের দোকানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। বিদ্যালয়ের একজন এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

