ঢাকার ধোলাইখাল এলাকার অস্থায়ী পশুর হাটে ঈদুল আজহার আগে শেষ মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা পাচ্ছেন না অনেক ব্যাপারী। হাটজুড়ে সারি সারি গরু থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে বিক্রি না হওয়ার শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই হাট থেকে অনেকেই ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু কিনে ঘরে ফিরছেন।
বুধবার (২৭ মে) সন্ধ্যার পর ধোলাইখাল পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, ব্যাপারীরা গরুর দড়ি ধরে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। কেউ কেউ গরু নিয়ে হাটের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরছেন। আবার কেউ দাম কমিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ গরু নিয়ে হাট থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন, তবে ইজারাদাররা হাট থেকে গরু বের হতে দিচ্ছেন না।
সন্ধ্যার দিকে হাট থেকে একটি ছোট গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছিলেন মো. জুয়েল নামের একজন ক্রেতা। তিনি জানান, ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছেন। এই দামে গরু কিনতে পেরে বেশ খুশি তিনি।
জাগো নিউজকে জুয়েল বলেন, কোরবানির উদ্দেশ্যে গরু কিনেছি। ঠকেছি নাকি জিতেছি, সেটা বড় কথা না। তবে আজ বাজারে গরুর দাম বেশ কম মনে হচ্ছে।
৪০ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু কেনা আরেক ক্রেতা ফিরোজ বলেন, আজ হাটে গরুর দাম কম। ৪০ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানির গরু কিনতে পেরেছি। এই দামে গরু কিনতে পেরে ভালোই লাগছে।
৪৯ হাজার টাকা দিয়ে গরু কেনা হাছান নামের আর একজন বলেন, আমরা ৪৯ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। আজ গরুর দাম বেশ কম। এই দামে গরু কিনতে পেরে আমরা খুব খুশি। নয়াবাজারে গরু নিয়ে যাবো।
মাঝারি আকারের একটি গরু ৮০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করেই হাটে গরুর দাম অনেক পড়ে গেছে। গতকাল গরুর যে দাম চাচ্ছিল ব্যাপারীরা আজ তার থেকে অনেক কম দাম চাচ্ছে। আমরা ৮০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। গতকাল এই গরুর দাম এক লাখ ৪০ হাজার টাকার ওপরে চাচ্ছিল।
হাটটিতে কেরানিগঞ্জ থেকে ছাগল নিয়ে আসা এক নারী জাগো নিউজকে বলেন, হাটে ক্রেতারা ছাগলের দাম অনেক কম বলছেন। এত কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। তাই হাট থেকে ছাগল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু হাটের দায়িত্বে যারা রয়েছে, তরা নিতে দিচ্ছে না। বলছে- হাট থেকে ছাগল এখন বের করা যাবে না। বের করার দেরি আছে।
কুষ্টিয়া থেকে ৬টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী বাতেন শেখ বলেন, দুই দিন হাটে আছি। খাবার, শ্রমিক আর পরিবহন খরচ বাড়ছে। কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই। মানুষ শুধু দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়। গরু বিক্রি করতে পারছি না। দাম কমিয়েও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, যে গরু দেড় লাখ টাকা দিয়ে কিনেছি, এখন বাজারে সেই গরুর দাম ক্রেতরা এক লাখ টাকার মতো বলছেন। এত লোকসানে তো গরু বিক্রি করা সম্ভব না। আল্লাহ যদি কপালে দুর্ভোগ লিখে থাকেন তাহলে তো করার কিছু নেই। বিক্রি করতে না পারলে গরু বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।
মানিকগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে আসা আর এক ব্যাপরী বলেন, এবার ঢাকায় গরু এনে ব্যাপারীরা বড় রকমের ধরা খেয়ে গেছেন। যে গরুর দাম ৮০-৯০ হাজার টাকা, সেই গরু কেউ কেউ ৫০-৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এবার অধিকাংশ ব্যাপারী লোকসনের মধ্যে পড়েছেন।
তিনি বলেন, কম দামে গরু কিনতে পেরে অনেকেই খুশি হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের মতো ব্যাপারীরা যে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা কেউ বুঝতে পারছে না। এভাবে লোকসান দিতে হলে সামনে অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দেবে।
সূত্র: জাগো নিউজ

