নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন এবং গণভোটের রায়ের আলোকে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ করেছে খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেল ৪টায় নগরীর চাষাড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্র ঘোষিত জুলাই মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গণহত্যা চালানোর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ‘জুলাই সনদ’ অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা না হলে ফ্যাসিবাদের দোসররা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো ধরনের টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, দেশে ন্যায়বিচার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আদর্শভিত্তিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে বেগবান করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দলের যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, “জনগণের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ফসল এই নতুন বাংলাদেশ। ছাত্র জনতার রক্তে অর্জিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো গড়িমসি দেশের মানুষ মেনে নেবে না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং দেশের শাসনব্যবস্থায় ইনসাফ ও খেলাফত প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যেতে হবে।”
খেলাফত মজলিস নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি হাফেজ কবির হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক আব্দুল করীম, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফুদ্দীন আহমদ খন্দকার, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মিজানুর রহমান।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর সহসভাপতি অধ্যাপক শাহ আলম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সভাপতি নুর মোহাম্মদ খান, সদর থানা সভাপতি খন্দকার হাফেজ আওলাদ, বন্দর উপজেলা সভাপতি মুফতী আবুল কাসেম, বন্দর থানা সভাপতি মাওলানা ফরিদুজ্জামান, ফতুল্লা থানা সভাপতি আবুবকর সিদ্দীক, ইসলামী ছাত্র মজলিসের মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, ইসলামী যুব মজলিসের মহানগর সভাপতি ডা. মোতাহার হুসাইন, শ্রমিক মজলিসের জেলা সভাপতি ফারুক আহমদসহ খেলাফত মজলিস ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

