ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের সক্ষমতা, বৈচিত্র্য ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে পোল্যান্ডের লজ শহরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পোশাক ও ফ্যাশন প্রদর্শনী ‘ট্রেন্ডস এক্সপো ২০২৬’-এ অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
২৫ থেকে ২৭ আগস্ট পোল্যান্ডের লজ শহরের পিটিএকে এক্সপো হোলসেল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ‘ট্রেন্ডস এক্সপো ২০২৬, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল অ্যান্ড ফ্যাশন এক্সপো’। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বি টু বি পোশাক ও টেক্সটাইল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের ৩৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন পণ্য, নতুন ডিজাইন, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী তৈরি পণ্য তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পান বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা।
‘ট্রেন্ডস এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পিটিএকে হোল্ডিংয়ের প্রেসিডেন্ট নিনা রিশকা ওলব্রিখোভস্কা, পিটিএকে এক্সপো লজের ইন্টারন্যাশনাল সেলস ডিরেক্টর অ্যাডাম শিবুর, বাংলাদেশ গার্মেন্ট বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ এবং বিকেএমইএর পরিচালক রাজীব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ক্রেতা, আমদানিকারক, উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফলে প্রদর্শনীটি বাংলাদেশি পোশাক প্রস্তুতকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত দীর্ঘদিন ধরেই ইউরোপের বাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা ও পণ্যের ধরনেও পরিবর্তন আসছে। এ অবস্থায় নতুন ক্রেতা তৈরি, নতুন পণ্য তুলে ধরা এবং প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন ব্যবসায়িক গন্তব্য খুঁজে নেওয়া বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী সেই সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে একই স্থানে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা, ব্র্যান্ড, আমদানিকারক ও পোশাক প্রস্তুতকারকদের উপস্থিতি থাকায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সরাসরি ব্যবসায়িক আলোচনা ও সম্ভাব্য চুক্তির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপীয় ক্রেতাদের কাছে নিজেদের পণ্যের মান, উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছে। পাশাপাশি নতুন ক্রেতা খোঁজার পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ দেশের নিটওয়্যার ও তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ইউরোপীয় বাজারে নতুন ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরিতে এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন।
বিকেএমইএ মনে করছে, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বি টু বি প্ল্যাটফর্মগুলোতে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে নতুন ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ধারণা আরও শক্তিশালী হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘ট্রেন্ডস এক্সপো ২০২৬’-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে নতুন ব্যবসায়িক সম্পর্ক তৈরি হবে এবং দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও টেক্সটাইল বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পথও তৈরি হবে।

