উচ্চ বেতনের আশ্বাসে শিক্ষিত তরুণদের ফাঁদে ফেলছে মানবপাচারকারী চক্র, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উদ্বেগজনক তথ্য
ডেস্ক রিপোর্ট: উচ্চ বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের সুযোগের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্ক্যাম সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসব প্রতারণা কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর অনেকেই জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পরিচালিত স্ক্যাম সেন্টারগুলোতে মানবপাচারের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অপরাধচক্র চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের টার্গেট করছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকেরই স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। তাদের বিদেশে ভালো চাকরি, উচ্চ বেতন এবং উন্নত কর্মপরিবেশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যায়।
অনেককে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে তাদের পাসপোর্ট ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নথি আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের বিভিন্ন ধরনের অনলাইন প্রতারণা পরিচালনা করতে বাধ্য করা হয়। কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এসব স্ক্যাম সেন্টারে কর্মীদের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়। কখনো ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব, কখনো অনলাইন সম্পর্কের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন এবং বিভিন্ন কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে বাধ্য করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এ ধরনের প্রতারণা কেন্দ্রের বিস্তার মানবপাচারের একটি নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা তৈরি করেছে। চাকরিপ্রার্থীদের একটি অংশ শুরুতে বিষয়টিকে বৈধ বিদেশি চাকরি হিসেবে মনে করায় প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারেন না।
বাংলাদেশি নাগরিকদেরও এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের তথ্যেও বিদেশে চাকরির প্রলোভনে বাংলাদেশিদের প্রতারণা ও পাচারের ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বেশি বেতনের প্রস্তাব, দ্রুত বিদেশ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি কিংবা নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অস্পষ্ট তথ্য থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে কোম্পানির বৈধতা, চাকরির ধরন, ভিসা, চুক্তিপত্র এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এ ধরনের মানবপাচার ও জোরপূর্বক অপরাধে যুক্ত করার ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে গিয়ে যাতে বাংলাদেশি নাগরিকরা মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে না পড়েন, সে জন্য চাকরিপ্রার্থীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সূত্র: সূত্র: নিউএজ ও জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (UNODC)।

