পুকুরে অবস্থান নেওয়া কুমির উদ্ধারে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের তিনগাঁও এলাকায় লোকালয়ে বড় আকৃতির একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম কুমিরটিকে দেখতে পান। এরপর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রথমে একটি পুকুরে কুমিরটির দেখা মেলে। পরে সেটি পাশের আরেকটি পুকুরে চলে যায়। রোববার রাতেও গ্রামের রাস্তা ও আশপাশের এলাকায় কুমিরটিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে এটি কচুরিপানায় ভরা একটি পুকুরে আশ্রয় নেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুমিরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যার পর স্থানীয়দের চলাচল কমে গেছে। পাশাপাশি কুমির দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমিরটির উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। পরে সেটিকে উদ্ধারে দিনভর চেষ্টা চালানো হলেও সফলতা পাওয়া যায়নি।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, লোকালয়ে কুমির দেখা যাওয়ার খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে বিষয়টি ঢাকার বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হয়। অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে কুমির উদ্ধারের চেষ্টা করে।
বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা কুমিরটি ধরার চেষ্টা করেছেন। পরে ঢাকার বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী দলও পুকুরে জাল ফেলে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। তবে কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি। সোমবারও কুমির উদ্ধারে অভিযান চালানোর কথা রয়েছে।
বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাসান বলেন, কুমিরটি দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে মিঠাপানির কুমির বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের কুমির সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হলেও বন্য প্রাণীর আচরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তাই স্থানীয়দের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কুমিরটি যে পুকুরে অবস্থান করছে সেটি কচুরিপানায় ভরা। ফলে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। অবস্থান নিশ্চিত করা গেলে উদ্ধারের কাজ সহজ হবে।
এদিকে, কুমিরটি কীভাবে লোকালয়ে এলো, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

