নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক), প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। নগরবাসীর হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করা নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে বর্তমান অভিযানের ধরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে ‘দুর্বলের ওপর কঠোর, সবলের প্রতি নমনীয়’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
গত এক সপ্তাহের অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হলো—
১. প্রভাবশালীদের দখলদারিত্বে প্রশাসনের নীরবতা
ফুটপাত থেকে সাধারণ হকারদের সরিয়ে দেওয়া হলেও প্রভাবশালী স্থায়ী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নামী রেস্টুরেন্ট, বেকারি ও শোরুমগুলো দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
২ নং রেলগেটের মনির হোটেল, বিবি রোডের হোয়াইট হাউজ রেস্টুরেন্ট, সুগন্ধা প্লাস, আলম কেবিন এবং চাষাড়ার সুমাইয়া বিরিয়ানি হাউসের মতো প্রতিষ্ঠানের রান্নার সরঞ্জাম ও চুলা ফুটপাতে স্থাপন করে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এছাড়া নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কের ১ নং রেলগেট থেকে কালীরবাজার পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অসংখ্য অবৈধ দোকান গড়ে উঠেছে। নবাব সলিমুল্লাহ রোড, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব সংলগ্ন এলাকা এবং ডিআইটি মসজিদের সামনেও একই চিত্র দেখা যায়, যেখানে ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে স্থায়ীভাবে মালামাল প্রদর্শন করছেন।
প্রশ্ন হলো, সাধারণ হকারদের ক্ষেত্রে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ হলেও এসব প্রভাবশালী দখলদারদের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই নমনীয়তা কেন?
২. পার্কিং সংকট ও কৃত্রিম যানজট
শহরের বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট।
বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু সড়কে (বিবি রোড) পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ফুটপাত ও সড়কের অংশজুড়ে অবৈধ পার্কিং নিয়মিত দৃশ্য। এর ফলে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।
৩. পরিকল্পনাহীন উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের অভাব
পরিকল্পনা ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ফলে শহরে এক ধরনের ‘ইঁদুর-বেড়াল’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিনে উচ্ছেদ হলেও রাতে আবারও হকাররা ফিরে আসছে।
হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ না থাকায় এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদে কোনো কার্যকর সমাধান দিচ্ছে না। তাদের জীবিকা বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক ও মানবিক পুনর্বাসন ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
১. বৈষম্যহীন অভিযান: উচ্ছেদ কার্যক্রমে কোনো বাছবিচার চলবে না। হকারদের পাশাপাশি ফুটপাত দখলকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. পার্কিং আইন কঠোর প্রয়োগ: যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পার্কিং নেই, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
৩. নিয়মিত নজরদারি: কালীরবাজার, নবাব সিরাজুদ্দৌলা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
শাহিন মৃধা
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা

