নারায়ণগঞ্জ, ১৬ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির। মঙ্গলবার বিকেলে এ পরিদর্শনে তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক স্পষ্টভাবে জানান, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। তিনি বলেন, দালালচক্র, মাদকসেবী এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পূর্ববর্তী নির্দেশনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ভাঙাচোরা মালামাল, আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি সরেজমিনে দেখেন।
জেলা প্রশাসক জানান, আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি হলেও দীর্ঘদিনের জমে থাকা অপরিচ্ছন্নতা এক বা দুই দিনের অভিযানে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়মিত ও ধারাবাহিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। হাসপাতালের দেয়ালঘেঁষা এলাকা, খালি জায়গা ও ঝোপঝাড় দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশও দেন তিনি।
পরিদর্শনে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি হাসপাতালের পানি সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত হন। এ সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বাথরুম, আলোকসজ্জা এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যাও ধাপে ধাপে সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে অনিয়ম প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির বলেন, চিকিৎসক সংকট থাকলেও ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আউটসোর্সিং কর্মীদের অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিটি কর্মীকে অবশ্যই ডিউটি পালন করতে হবে। অনুপস্থিতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, চুরি, দালালচক্র এবং মাদকসেবীদের উপস্থিতি রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে আনসার নিয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই ধরনের মনিটরিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত থাকবে এবং হাসপাতালগুলোকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

