স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মেঘনা ফেরিঘাট এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।
নিহতরা হলো রাজধানীর কদমতলী থানার শনিআখড়া এলাকার রাজু মিয়ার ছেলে ও বর্ণমালা স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র মেরাজ (১৫) এবং ধনিয়া এলাকার ফারুক ভূঁইয়ার ছেলে ও এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কায়েস ভূঁইয়া (১৩)।
সহপাঠীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, বুধবার দুপুরে এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিনজন এবং বর্ণমালা স্কুলের চারজন শিক্ষার্থী স্কুল ফাঁকি দিয়ে একত্রে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর পাড়ে ঘুরতে আসে। দুপুর ২টার দিকে তারা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে দুইজন পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করলে মেরাজ ও কায়েস তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যায়। কিন্তু সাঁতার না জানায় এবং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে তারাই পানিতে তলিয়ে যায়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় চার ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের পর বিকেলে একে একে মেরাজ ও কায়েসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতদের পরিবার জানায়, সন্তানরা যে স্কুল ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে সোনারগাঁয়ে বেড়াতে এসেছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। সাঁতার না জানাটাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের জোন-২ এর উপ-পরিচালক মো. ওসমান গনি জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টার পর দুই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার এবং বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহাবুবুর রহমান ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেন। তারা জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দুই কিশোর শিক্ষার্থীর এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে এলাকায় এবং তাদের নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

