নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ১১ নং ওয়ার্ডের হাজীগঞ্জ-নবীগঞ্জ ঘাট এলাকায় এক বিশাল ময়লার ভাগাড় তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা এই বর্জ্যের কারণে এলাকায় মশার উপদ্রব চরম আকার ধারণ করেছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ডেঙ্গু আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নিত্যদিনের এই নারকীয় পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ঘাট দিয়ে পারাপার হন। কিন্তু ঘাটের ঠিক পাশেই এভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার কারণে পুরো এলাকার বাতাস দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান মৌসুমের বৃষ্টির পানি ময়লার স্তূপে জমে এডিস মশার উর্বর প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই মশার কামড়ে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ঘরে ঘরে শিশুরা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে, যার ফলে ডেঙ্গু ছড়ানোর ভয় এখন তুঙ্গে।
ঘাটের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন স্থানীয় দোকানদাররা। ঘাটের এক ব্যবসায়ী জানান, “ময়লার তীব্র দুর্গন্ধে দোকানে বসে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। কাস্টমাররা গন্ধ আর মশার চোটে ঘাটের দোকানগুলোতে দাঁড়াতে চায় না। দিন-দুপুরেও দোকানে কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়, তাও মশার হাত থেকে রেহাই মিলছে না। দ্রুত এই ময়লার ভাগাড় এখান থেকে না সরালে আমাদের ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনের চরম উদাসীনতার কারণেই আজ এই জনবহুল ঘাটের এমন করুণ দশা। নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করা এবং মশক নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মনে। সচেতন মহল মনে করছেন, সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ যদি এখনই জরুরি ভিত্তিতে এই ময়লার স্তূপ অপসারণ এবং ক্রাশ প্রোগ্রাম চালু না করে, তবে আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে বড় ধরনের ডেঙ্গু মহামারি ও স্বাস্থ্য বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

