নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় প্রায় ২১ লাখ টাকার ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে বন্দর থানা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তারের পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী শিমন হাসানের বাবা মরহুম হাজী মো. আতিকুর রহমান আতিক একজন ড্রেজার ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর তিনি পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপ ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ বন্দর উপজেলার সালেহনগর এলাকার রূপালী গেইট বাগান সংলগ্ন কাইল্লাহ মিয়ার বাড়ির সামনে সংরক্ষিত ছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৫ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো এক সময়ে প্রধান আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন পরিকল্পিতভাবে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে ১২ ইঞ্চি ড্রেজার পাইপ ৮৫টি, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ টাকা। এছাড়া বুস্টার মেশিনের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রাংশ, যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১ লাখ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিমন হাসান জানান, ২৭ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রাংশ খুঁজে না পেয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে গোপন সূত্রে জানতে পারেন, চুরি হওয়া পাইপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ নবীগঞ্জ ও মাহমুদনগর এলাকার বিভিন্ন ভাঙারি (স্ক্র্যাপ) দোকানে বিক্রি করা হয়েছে। এরপর আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বন্দর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তবে মামলার অপর আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, গ্রেপ্তার হওয়া যুবদল নেতা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তাদের দাবি, গত বছরের ৫ আগস্টের পর চাঁদাবাজির মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি এবং অভিযোগগুলো তদন্তাধীন।
বন্দর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

