নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, ফতুল্লার বিপুল জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের জনবল অপ্রতুল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ফতুল্লা থানাকে দুই ভাগ করে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ আদায় করতে ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর (গাবতলী) এলাকার গাবতলী বাইতুল মোকাদ্দাস কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে উপস্থিত হয়ে নামাজের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব শুধু প্রটোকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের কাছে থাকা, তাঁদের কথা শোনা এবং তাঁদের কাছে জবাবদিহি করাই জনপ্রতিনিধিত্বের মূল কথা।”
তিনি বলেন, “মসজিদ সবার। এখানে কোনো দল বা মতের রাজনীতি থাকা উচিত নয়। তাই কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই বিভিন্ন এলাকার মসজিদে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাই।”
ফতুল্লার প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সংসদ সদস্য বলেন, এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, ফতুল্লার জনসংখ্যা অনেক বেশি হলেও সেই তুলনায় পুলিশের জনবল পর্যাপ্ত নয়। এ কারণে ফতুল্লা থানাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে নতুন একটি থানা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের নিরাপত্তার কোনো দল হয় না। দল মত নির্বিশেষে মুরুব্বি, যুবসমাজ, আলেম ওলামা এবং এলাকার ভালো মানুষদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের ভুল ত্রুটি থাকলে তা নির্ভয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই এলাকার উন্নয়নে এগিয়ে যেতে চান।
আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, “জনগণের হক জনগণের কাছেই পৌঁছে দিতে চাই। প্রটোকল বা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও উন্নত ফতুল্লা গড়ে তুলতে চাই।”
জুমার নামাজ শেষে সংসদ সদস্য গাবতলী মারকাফুল ইহসান মাদরাসা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মাদরাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন।

