সরকারি তোলারাম কলেজে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘটিত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। একই সঙ্গে সংঘর্ষে আহত উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের হাসপাতালে গিয়ে খোঁজখবর নেন সংগঠনটির নেতারা এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সহাবস্থান নিশ্চিত করতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ফেডারেশনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৃজয় সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৌরভ সেন যৌথভাবে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন প্রতিষ্ঠা করা। অথচ সেই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিন সরকারি তোলারাম কলেজে সহিংসতার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
তারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার বা শক্তি প্রদর্শনের স্থান নয়; বরং এটি মুক্তচিন্তা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার ক্ষেত্র। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ যেন পুনরায় ভীতিকর পরিস্থিতিতে না ফিরে যায়, সে জন্য প্রতিটি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণে ‘পরিবেশ পর্ষদ’ গঠনের বিকল্প নেই।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি তোলারাম কলেজে সংঘটিত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্যাম্পাসে সব সক্রিয় ছাত্র সংগঠন নিয়ে ‘পরিবেশ পর্ষদ’ গঠন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু, পেশিশক্তি ও সহিংসতার রাজনীতি বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ এবং সকল ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
এদিকে সংঘর্ষে আহতদের হাসপাতালে গিয়ে তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি তাইরান আবাবিল রোজা, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন মৃধা, তোলারাম কলেজ শাখার সদস্য সচিব ও জেলার রাজনৈতিক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মুন্নি আক্তার প্রত্যাশা, তোলারাম কলেজ শাখার দপ্তর সম্পাদক ও জেলার কার্যকরী সদস্য সিয়াম সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

