নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে ‘ভূত দেখার’ গুজবে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একে একে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় রোববার দিনের জন্য কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেওয়ার পর কয়েকজন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় কারখানার অন্য শ্রমিকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শুরু হয় ছোটাছুটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারখানাটির এক শ্রমিক জানান, এক নারী শ্রমিক কারখানার ভেতরে ‘ভূত’ দেখেছেন বলে দাবি করেন। এরপর তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে একে একে আরও কয়েকজন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ইউনিভার্সেল মেনসওয়্যার লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) বিল্লাল হোসেন বলেন, রোববার প্রায় ৯০ শতাংশ শ্রমিক কাজে উপস্থিত ছিলেন। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি বিবেচনায় কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকদের ‘ভূত দেখার’ দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে ভূত দেখেছেন বলে বলছেন। তবে সচেতন মানুষ হিসেবে বিষয়টি বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। অসুস্থতার ঘটনাও কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নয়, কারখানার বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকরা অসুস্থ হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পুরো ইপিজেডের মধ্যে শ্রমিকদের আরামের কথা বিবেচনা করে তাদের কারখানাতেই এসির ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে শ্রমিকরা ঠিক কী কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, তা এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
আদমজী ইপিজেডের বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক নাসরিন জানান, শনিবারও ৫ থেকে ৭ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাদের হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ইডি স্যারসহ তারা কারখানাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। সকাল থেকেই তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন। কারখানার ভেতরে গিয়ে দমবন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা শ্বাসরোধ হওয়ার মতো তেমন কোনো পরিস্থিতি চোখে পড়েনি।
শ্রমিকদের মধ্যে ‘ভূত’ নিয়ে আতঙ্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রমিকরা ভূতের কথা বলছেন। তবে বিষয়টি সচেতনভাবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। শ্রমিকরা কেন অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, এর প্রকৃত কারণ শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
বেপজার এই কর্মকর্তা আরও জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় রোববারও কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে শ্রমিকদের অসুস্থ হয়ে পড়ার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ‘ভূত’ আতঙ্কের পেছনে কোনো গুজব, শারীরিক অসুস্থতা, পরিবেশগত সমস্যা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

