মতামত কলাম | নারায়ণগঞ্জ বুলেটিন
আমলা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষণীয় বার্তা বহন করে। সম্প্রতি তারেক রহমান-এর একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি নিজের ব্যাগ নিজেই কাঁধে বহন করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। চাইলে তিনি সহজেই কোনো স্টাফকে এই দায়িত্ব দিতে পারতেন। বাস্তবে হয়তো এমন প্রস্তাবও ছিল, কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি।
এই সাধারণ দৃশ্যটি আসলে গভীর একটি বার্তা দেয়। নেতৃত্ব মানে শুধু ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং আত্মনির্ভরতা, সংযম এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখা।
আমাদের দেশে অনেক ক্ষেত্রে এর বিপরীত চিত্র দেখা যায়। কিছু আমলা ও তথাকথিত ‘পাতি নেতা’ নিজের ব্যাগ তো দূরের কথা, নিজের মোবাইল ফোন পর্যন্ত নিজের কাছে রাখেন না। পিএ বা এপিএসের মাধ্যমে কথা বলা বা শোনা যেন এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এতে করে তারা নিজেদের চারপাশে অপ্রয়োজনীয় দূরত্ব তৈরি করেন, যা সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। তারা বাহ্যিক চাকচিক্য নয়, বরং আচরণ, বিনয় এবং বাস্তব জীবনের সরলতাকে মূল্যায়ন করে। যে নেতা নিজের কাজ নিজে করতে পারেন, মানুষের সঙ্গে সহজভাবে মিশতে পারেন, তিনিই প্রকৃত সম্মান অর্জন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আচরণ তাই একটি বড় বার্তা দেয়। শুধু নেতা-কর্মী নয়, আমলাদেরও বুঝতে হবে যে, আচরণ ও জীবনযাপনের সরলতা মানুষের কাছে সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায়।
শেষ কথা, নেতৃত্বের আসল শক্তি ক্ষমতায় নয়, বরং মানুষের সঙ্গে কতটা কাছাকাছি থাকা যায় তার ওপর নির্ভর করে।
লেখক:
প্রফেসর আলিয়ার হোসেন
(হেড অব ডিপার্টমেন্ট, নর্থাম্ব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়; লিডারশিপ কোচ, ডিপ্লোম্যাটিক ট্রেইনার, সাসটেইনেবিলিটি এক্সপার্ট ও পলিটিক্যাল অ্যানালিস্ট)

