নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১৩ বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত আদালতে জমা পড়েনি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন। এই দীর্ঘ বিলম্বের পর, আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পুলিশ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার (১ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আবদুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তদন্তকারী সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ পর্যন্ত ১০৪ বার সময় নিয়েছে।
গত ২৬ এপ্রিল মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার আরও ৩০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিলেন, যা আদালত মঞ্জুর করেন। সে সময় তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, প্রতিবেদন তৈরিতে এখন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন।
পূর্ববর্তী ধার্য তারিখে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করার কথা থাকলেও আজ তদন্তকারী কর্মকর্তা কোনো প্রতিবেদন বা আবেদন জমা দেননি। ফলে বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আগামী ধার্য তারিখে (১ জুলাই) প্রতিবেদন দাখিলের চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
আজকের শুনানির সময় মামলার ৯ জন আসামির মধ্যে ৭ জন আদালতে হাজিরা দেন। হাজিরা দেওয়া আসামিরা হলেন ইউসুফ হোসেন, কাজল হাওলাদার, আবদুল্লাহ্ আল মামুন, সাফায়েত হোসেন, মামুন মিয়া, ইয়ার মোহাম্মদ পারভেজ এবং রিফাত হোসেন।
পলাতক আসামিরা হলেন সুলতান শওকত এবং সালেহ রহমান সীমান্ত।
বাদীপক্ষের আইনজীবী প্রদীপ ঘোষ বলেন, “তদন্তকারী কর্মকর্তা অগ্রগতির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা আবেদন না দেওয়ায় আমরা দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের আবেদন জানিয়েছিলাম। আদালত তা আমলে নিয়ে আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন।”
এদিকে ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি হতাশা ব্যক্ত করে প্রশ্ন তোলেন, “হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পার হয়ে গেল। এখন বলা হচ্ছে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতির প্রয়োজন। এই অনুমতির জন্যও কি মাসের পর মাস সময় চলে যাবে?”
প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জ শহরের বাসা থেকে বেরিয়ে স্থানীয় একটি পাঠাগারের সামনে থেকে অপহরণ হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোর তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। পরদিন তার ‘এ’ লেভেল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হয়। যেখানে দেখা যায় ত্বকী পদার্থবিজ্ঞানে ৩০০ নম্বরের মধ্যে সারা পৃথিবীতে সর্বোচ্চ ২৯৭ পেয়েছিলেন।
তবে, অসাধারণ এই ফলাফল জানতে পারেনি ত্বকী। ৮ মার্চ সকালে শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে অনন্য মেধাবী এই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সূত্র: নারায়ণগঞ্জ টাইমস

