নারায়ণগঞ্জ সিটির সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন ও কারামুক্তি আইনের একদম স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছে। এখানে কোনো ধরণের আপোষ বা রাজনৈতিক ছাড় দেয়ার বিষয় নেই। তবে হ্যাঁ, মেয়র আইভীর জনপ্রিয়তা, গ্রহনযোগ্যতা এক্ষেত্রে তাকে সহযোগিতা করেছে৷ তিনি দীর্ঘদিন টানা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করায় বিশ্বের বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। সেখানেও তার একটি স্বচ্ছ রাজনৈতিক ভাবমূর্তি রয়েছে৷
আওয়ামী লীগের রাজনীতির বাইরেও ব্যক্তি আইভীর একটা রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। যা থাকা উচিত, থাকতে হয়৷ এটা নিজস্ব অর্জন।
মেয়র আইভীকে প্রথম পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলে তার বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। একইসঙ্গে তাকে আরো দুটি হত্যা মামলা দেয়া হয়৷ এরপর সাতটি মামলায় জামিন হলে তাকে আবারো শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়৷ জামিন হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে৷ অন্যদিকে পুলিশ নতুন করে মামলা দেয়। এ নিয়ে আইভীকে ১২টি মামলা দেয়া হয়৷ প্রায় ছয় মাস জামিন, জামিনের বিরুদ্ধে আপিল আর শ্যোন এরেস্টে কেটে যায় তার কারাগার জীবন।
তারপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সারা হোসেনকে আমরা আইন আদালত অঙ্গনের সাংবাদিকরা সব বিষয়ে কথা বলতে দেখি না৷ সবার মামলা তিনি করেন না। তাদের কিছু পছন্দ ও অপছন্দ আছে৷ তবে তিনি আইনের মধ্যে থেকেই কাজ করেন।
মেয়র আইভীকে যখন একটার পর একটা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে তখন ব্যারিস্টার সারা হোসেন হাইকোর্টে আইভীর পক্ষে রিট করেন। রিটের শুনানি করে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, নতুন করে আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো যাবে না। একইসঙ্গে রুল দেয়া হয়, আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেনো বেআইনি হবে না।
এই নির্দেশনার পরও কেটে যায় এক মাস। কারণ রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন৷
এরপরও দুই সপ্তাহ মেয়র আইভীর জামিন প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই চলতে থাকে। অবশেষে আইনীভাবে তাকে সরকার আর আটকানোর সুযোগ পায়নি বা সুযোগ নেই৷
এক্ষেত্রে আইভীর সামাজিক গ্রহনযোগ্যতা ও নিজস্ব রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক বা সম্পর্কও সহায়ক হয়েছে৷ যা একজন মানুষের রাজনৈতিক জীবনে ইতিবাচক দিক।
তবে আওয়ামী লীগে তার পদ পদবী ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কর্মকাণ্ডের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ঢোকানো যায়নি। সুযোগ থাকলে তাকে আইসিটির মামলায় আসামি করা হতো৷
রাজনীতির বাস্তবতায়, আইনিগতভাবে চূড়ান্ত লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই সেলিনা হায়াৎ আইভী জামিন পেয়েছেন।
আর রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বলতে কিছু নাই। আওয়ামী লীগ মানে আওয়ামী লীগ। একজন গ্রামের কর্মী থেকে কেন্দ্রীয় নেতা দলের প্রয়োজনে একসূত্রে কথা বলে৷ এক ধরণের মানসিকতা ধারণ করেন। তবে একটি দলের নেতৃত্ব যারা দেন তাদের একেকজনের একেক রকম রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য থাকে। সেটাই ব্যাখ্যা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মানুষ কিছু টাকা কামায়৷
আইভী কোনো অনুকম্পা বা সমঝোতা নয়। রাজনৈতিক লড়াই করেই গ্রেপ্তার হয়েছেন। জামিন ও মুক্তিও স্বাভাবিক আইনীভাবে হয়েছে।
জাহিদ হাসান
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
এখন টিভি

