জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় নারায়ণগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত আন্দোলনকারী আবুল হাসান স্বজনের মৃত্যু অয়ন ওসমানের পিস্তল থেকে ছোড়া গুলিতে হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন তার বড় ভাই মো. আবুল বাশার অনিক।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সাক্ষ্য প্রদানকালে তিনি এ দাবি করেন। এদিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত ১০টি হত্যাকাণ্ডের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হয়।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে প্রসিকিউশন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের পর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
জবানবন্দিতে আবুল বাশার অনিক বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে তিনি ও তার ছোট ভাই আবুল হাসান স্বজন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকা থেকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিতে চাষাঢ়া মোড়ে যান। সেখানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর বিজিবি, পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিলে তারা বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করেন।
তিনি আদালতকে জানান, পরে মিছিল নিয়ে পুনরায় চাষাঢ়া মোড়ের দিকে আসার সময় ল্যাবএইড হাসপাতাল সংলগ্ন গলিতে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের নেতৃত্বে তার ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন, ভাতিজা আজমেরী ওসমান, শ্যালক তানভীর রহমান টিটু, শাহ নিজাম, আবদুল করিম বাবু (ডিস বাবু), কামরুল হাসান মুন্না, ছাত্রলীগ নেতা শুভ, রিয়াদ, সোহানুর রহমান শুভ্র, মেহেদী, ফরহাদসহ ১০০ থেকে ২০০ জন অস্ত্রধারী তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।
জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, অয়ন ওসমানের হাতে থাকা পিস্তল থেকে ছোড়া একটি গুলি তার ভাই আবুল হাসান স্বজনের বুকের বাঁ পাশে বিদ্ধ হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বজনকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে জরুরি অস্ত্রোপচারের পর তাকে পর্যবেক্ষণ কক্ষে রাখা হয়।
আবুল বাশার অনিক আদালতে আবেগঘন বর্ণনায় বলেন, অস্ত্রোপচারের পর জ্ঞান ফিরলে স্বজন প্রথমেই জানতে চান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে কি না। তিনি জানান, শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে গেছেন। এ কথা শোনার পর স্বজন মুচকি হেসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন। এরপর তিনি আর কোনো কথা বলেননি।
পরদিন ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবুল হাসান স্বজন মারা যান।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান এ মামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আদালতে উপস্থাপিত এসব তথ্য সাক্ষীর জবানবন্দির অংশ, যার সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

