আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা না করলেও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রার্থী বাছাই নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরে। দলীয় প্রতীক না থাকায় প্রার্থী চূড়ান্তে ঠিক করা হয়েছে তিনটি মানদণ্ড— জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা, দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান এবং অধিকতর যোগ্যতা।
একইসঙ্গে সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় পর্যায়েও জোটবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার কৌশল নিচ্ছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। নারায়ণগঞ্জের মতো জেলা যেখানে শিল্প-বাণিজ্য ও জনবহুল এলাকা হিসেবে ভোটের মাঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যেই তৎপরতা বেড়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে।
সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অযাচিত হস্তক্ষেপের বিষয়ে দলীয় সাংগঠনিক সভায় সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক।’ এ নির্দেশনার আলোকে নারায়ণগঞ্জের সাংগঠনিক নেতাদের বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে কঠোর ভূমিকা পালনের কথা বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জে বিএনপির একাধিক ইউনিটে দেখা যাচ্ছে, একেকটি ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় সমর্থন পেতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার-পাঁচজন প্রার্থী। তাদের কেউ সাবেক সংসদ সদস্যের অনুগত, কেউ ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর।
অন্যদিকে, জামায়াত-এনসিপির একক প্রার্থী ও নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রার্থীরাও থাকবেন ভোটের মাঠে। এমন বাস্তবতায় কৌশলী ভূমিকায় নারায়ণগঞ্জের নীতিনির্ধারকরা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল জানান, ‘স্থানীয় সরকারের বেলায় আঞ্চলিকতা, গোষ্ঠীগত ব্যাপার এবং এলাকা বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত দেবে দল।’ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান আরও জানান, সংসদ নির্বাচনের মতো অন্য দলের লোকদেরও সমর্থন দেওয়া হতে পারে।
এখনো চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও নভেম্বর-ডিসেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত সরকারের। নারায়ণগঞ্জের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন বলে জানান। তবে ভোট বিতর্কমুক্ত রাখা সরকারের জন্য যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনি বিপুল বিজয়ের মাধ্যমেই জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চায় বিএনপি।

