ফতুল্লার মাসদাইরে বিকাশ ব্যবসায়ী মোতালেব হোসেন (৬১) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. জাকির হোসেনসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিকাশের কাজে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন, নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ভুক্তভোগীর ব্যাগ, টিফিন ক্যারিয়ার, ইসলামী ব্যাংকের চেক বই ও ভিসা কার্ড এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১ জুলাই সকাল ৮টার দিকে মাসদাইর বাজারের “সুমাইয়া টেলিকম”-এর মালিক মোতালেব হোসেন দোকানের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরদিন ভোরে জামতলার প্যারিসবাগ গেট সংলগ্ন সড়কের পাশে তোষকে মোড়ানো অবস্থায় একটি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা মরদেহটি মোতালেব হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে মোতালেব হোসেনকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যার আলামত গোপন করতে মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে অটোরিকশাযোগে জামতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল আসামি জাকির হোসেন মোতালেব হোসেনের কাছে ২০ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন। তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাকিরকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এর জেরে প্রতিশোধ নেওয়া এবং ভুক্তভোগীর মোবাইলে থাকা বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে সহযোগীদের নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেন জাকির।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ওমর ফারুক ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বন্দর থানার ছেলসারদি এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত তিন আসামি হলেন মো. জাকির হোসেন (৪৭), মো. ওমর ফারুক (২২) ও মো. সোহেল (৫১)।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর ব্যবহৃত একটি টেকনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি নকিয়া স্মার্টফোন, দুটি বাটন ফোন, নগদ ৮৬ হাজার টাকা, ইসলামী ব্যাংকের একটি চেক বই ও ভিসা কার্ড, টিফিন ক্যারিয়ার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পুরাতন তিন চাকার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী জাকির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

