বক্তাবলীতে ধর্ষণের দায়ে হিরুকে হ’ত্যা করা হলেও ডাক্তারের রিপোর্টে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায় নি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকায় পাঁচ বছরের শিশু আফসানাকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত হীরুকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনাকে ঘিরে নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে উঠছে বিভিন্ন অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ।
নিহত হীরুর পরিবারের দাবি, ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গণপিটুনির ঘটনার পর তাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল লুট করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশু আফসানার মা সাবানা আক্তার দাবি করেন, তার মেয়েকে নদীর পাড়ের একটি পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। তিনি জানান, ঘটনার পর শিশুটির গোপনাঙ্গে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান এবং তা পরিষ্কার করেন। তবে আফসানার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সে নিজেই পানি দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করেছিল।
এ ঘটনাকে ঘিরে ভিন্নমতও রয়েছে। আফসানার চাচির দাবি, অভিযোগের পর শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি কোনো ধরনের স্পষ্ট আলামত দেখতে পাননি। এছাড়া স্থানীয় অনেকের দাবি, পূর্ব বিরোধের জেরে একটি পক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে।
এদিকে, মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের সুস্পষ্ট আলামত পাওয়া যায়নি। তবে শিশুটির শরীরে সাম্প্রতিক যৌন নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার অপর আসামি সহেল বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

