বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন নারায়ণগঞ্জ কলেজ শাখার সদস্যসচিব তাহমিদ আনোয়ার বলেছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংকট সমাধানের পরিবর্তে শুধু পরীক্ষাপদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ সমস্যার সমাধান নয়।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তাহমিদ আনোয়ার বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের পর দেশ একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছে। নতুন সরকারের কাছে শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে পরীক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর অনমনীয় মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, শিক্ষা জনগণের মৌলিক অধিকার হলেও বাস্তবে অসংখ্য শিক্ষার্থী এখনো মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ও কলেজের পাঠদানের ওপর নির্ভর করতে না পেরে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে কোচিং ও ব্যাচে পড়তে বাধ্য হচ্ছে, যা বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই ভুল অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা প্রদান এবং দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে জানানো হয়, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে চাষাড়া চত্বরে কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আগে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তাহমিদ আনোয়ার বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন শিক্ষাসংস্কার বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা ও স্মারকলিপি জমা দিয়েছিল। সেখানে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কোনো বিদেশি মডেলের অনুকরণে নয়, বরং দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন কেবল পরীক্ষার হলে কঠোর নজরদারি, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বা প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক, গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা, আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী মৌলিক সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে একপাক্ষিক ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি একটি গণমুখী, বৈষম্যহীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান, যেখানে শিক্ষার লক্ষ্য হবে দক্ষ, মানবিক, যুক্তিবাদী ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরি করা।

