নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ
নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর আবারও আলোচনায় এসেছেন বিএনপির নেতা জাকির খান। একসময় জেলা ছাত্রদলের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত এই নেতার প্রত্যাবর্তন ঘিরে যেমন তৈরি হয়েছে কর্মী-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, তেমনি সামনে এসেছে পুরোনো বিতর্কও।
মামলা ও দীর্ঘ পলাতক জীবনের পর ২০২২ সালে গ্রেপ্তার হন জাকির খান। তাঁর বিরুদ্ধে একসময় ৩৩টি মামলা ছিল বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি ব্যবসায়ী নেতা সাব্বির আলম খন্দকার হত্যা মামলায় তিনি আদালত থেকে খালাস পান। তাঁর আইনজীবীর দাবি, ৩৩ মামলার মধ্যে ৩২টিতেই তিনি খালাস পেয়েছেন।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কারামুক্তির পর নারায়ণগঞ্জে তাঁকে ঘিরে বড় ধরনের নেতাকর্মী সমাগম ও শোডাউন দেখা যায়। দীর্ঘ ২২ বছর পর বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়েও উপস্থিত হন তিনি। পরে দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচিতেও নিজের শক্তিশালী কর্মীভিত্তির জানান দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এখানেই মূল প্রশ্ন, জাকির খানের এই ব্যক্তিগত কর্মীভিত্তি কি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত হবে, নাকি তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতির নতুন বলয় তৈরি করবে?
দীর্ঘদিন রাজনীতির বাইরে থেকেও নিজের কর্মীসমর্থকদের ধরে রাখতে পারা নিঃসন্দেহে তাঁর বড় রাজনৈতিক শক্তি। তবে অতীতের বিতর্ক যেন ভবিষ্যতের রাজনীতিকে প্রভাবিত না করে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
জাকির খান যদি দলীয় শৃঙ্খলা ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য রেখে নিজের জনপ্রিয়তাকে বিএনপির স্বার্থে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে নারায়ণগঞ্জে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন। বিপরীতে ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পেলে সেই শক্তিই দলের জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
তাই নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: জাকির খান বিএনপির জন্য নতুন শক্তি, নাকি নতুন সমীকরণের নতুন ঝুঁকি?

