নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ভোলার ইলিশা পর্যন্ত সরাসরি ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন এই নৌপথ চালুর ফলে ভোলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ যোগাযোগে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা। বিশেষ করে যাত্রী, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচলে এ সার্ভিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের কাঁচপুরে ঢাকা ইলিশা ফেরি সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করতে সরকার বড় ধরনের যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সড়ক ও সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোলাকে স্থলপথে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই মানুষকে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বাড়াতে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হবে।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট থেকে কাঁচপুর ইলিশা নৌপথে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়। পরীক্ষামূলক যাত্রার কয়েক দিনের মধ্যেই এ রুটে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, পিকআপ ও পণ্যবাহী ট্রাকের ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।
বর্তমানে ‘বেগম সুফিয়া কামাল’ ও ‘বেগম রোকেয়া’ নামে দুটি ফেরি এ রুটে চলাচল করছে। কাঁচপুর থেকে ইলিশা কিংবা ইলিশা থেকে কাঁচপুর যেতে সময় লাগছে প্রায় আট ঘণ্টা।
যাত্রী ও যানবাহনের ব্যাপক সাড়া বিবেচনায় ভবিষ্যতে এ রুটে ফেরির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান নৌপরিবহন মন্ত্রী। একই সঙ্গে ভাড়া যৌক্তিক করা, যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং ফেরিঘাটে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, কাঁচপুর ইলিশা সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালুর ফলে ভোলার ব্যবসা বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। স্থায়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই ফেরি সার্ভিস ভোলার মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

