জেলা প্রশাসক ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের কাছে জাতীয় ছাত্রশক্তির দাবি
আংশিক নয়, সম্পূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে জেলা প্রশাসক এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
স্মারকলিপিতে সংগঠনটির নেতারা উল্লেখ করেন, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার অন্তর্গত ফতুল্লা ইউনিয়ন একটি ঘনবসতিপূর্ণ, শিল্পসমৃদ্ধ ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ফতুল্লা থানার নামও এ ইউনিয়নের নামানুসারে হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যার ঘনত্ব, শিল্পায়ন, বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ফতুল্লা ইউনিয়ন একটি পূর্ণাঙ্গ নগর এলাকার বৈশিষ্ট্য বহন করে আসছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রায় ৪ দশমিক ৭৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নে আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষের বসবাস। এখানকার অধিকাংশ মানুষ তৈরি পোশাকশিল্প, বস্ত্রশিল্প, বিভিন্ন শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অকৃষিভিত্তিক পেশায় নিয়োজিত। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে ফতুল্লা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও ফতুল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দারা এখনো সিটি কর্পোরেশনের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা সড়ক, মশার উপদ্রব, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক সেবার ঘাটতির কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। জলাবদ্ধতার কারণে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ফতুল্লা ইউনিয়নের জনগণ বিভিন্ন ধরনের কর ও ফি পরিশোধ করলেও সেই অনুপাতে উন্নত নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির দাবি, পূর্বে প্রকাশিত একটি প্রস্তাবনায় সম্পূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি থাকলেও সর্বশেষ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে কেবল আংশিক এলাকাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে ফতুল্লা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদ পড়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে এবং সমন্বিত উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংগঠনটির মতে, একটি ইউনিয়নকে খণ্ডিতভাবে সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আনলে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। তাই জনস্বার্থ, সুষম নগরায়ণ এবং ফতুল্লা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের ন্যায্য নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ইউনিয়নকে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য সচিব মো. জহিরুল ইসলাম, ফতুল্লা থানা কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান শিকদার, মহানগর কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মারুফ সরকার, সংগঠক রবিউল হাসান মিঠু, সদস্য সারোয়ার হোসেন রুপম, ফতুল্লা থানা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে বক্তব্যে জাতীয় ছাত্রশক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সদস্য সচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে সম্পূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়নকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ থাকলেও পরবর্তীতে ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড বাদ দেওয়া হয়েছে। চারপাশে সিটি কর্পোরেশনের এলাকা থাকা সত্ত্বেও মাঝখানের অংশকে বাইরে রাখা হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও সমমানের ওয়ার্ডগুলোকে বাদ দেওয়া জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফতুল্লা থানা কমিটির আহ্বায়ক মো. হাসান শিকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যায় ফতুল্লা ইউনিয়নের মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সিটি কর্পোরেশনের আওতাভুক্তি ছাড়া এ অঞ্চলের মানুষের কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই সম্পূর্ণ ফতুল্লা ইউনিয়নকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

