নারায়ণগঞ্জে ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালিতে সংঘর্ষের সময় গুলিতে নিহত যুবদলকর্মী শহীদ শাওন আহমেদের শাহাদাতবার্ষিকীতে তার কবর জিয়ারত করেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শাওনের কবর জিয়ারত শেষে তার মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় শাওনের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে শাওনের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন খোরশেদ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক যুবদল নেতা শওকত খন্দকার, রানা মুন্সি, রাসেল আহমেদ মনির, মো. মিঠু, কুতুবউদ্দিন, নাহিদ পারভেজসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
শাওনের স্মৃতিচারণ করে মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, “শাওনের কাছে আমরা ঋণী। শাওনের মতো নেতাকর্মীদের ত্যাগের ফলেই দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই ত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।”
তিনি বলেন, “শাওনের পরিবার আজও তাকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছে। একজন শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। শাওনের মা ও বড় ভাইকে আমি আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা তাদের পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।”
যে ঘটনায় প্রাণ হারান শাওন
২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ শহরে জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা র্যালি বের করেন। র্যালিটি শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় গুলি ও সংঘর্ষে যুবদলকর্মী শাওন আহমেদ নিহত হন। ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে সে সময় বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। (bdnews24.com)
শাওনের মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় ভাই মিলন প্রধান বাদী হয়ে প্রথমে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে শাওনের পরিবার নতুন করে একটি হত্যা মামলা করে। ওই মামলায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাবেক সংসদ সদস্যসহ মোট ৫২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে শাওনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও আনা হয়। (Prothom Alo)
এই মামলার ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশের তৎকালীন উপপরিদর্শক মাহফুজুর রহমান কনককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছে। মামলায় তাকে শাওনকে গুলি করার অভিযোগে আসামি করা হয়েছে। (Prothom Alo)
‘শাওনের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হবে’
শাওনের মায়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় খোরশেদ বলেন, একটি পরিবারের সন্তান হারানোর শূন্যতা কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। শাওনের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে হলে তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, “শাওন শুধু একটি নাম নয়, সে আমাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক। তার মতো অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা কথা বলার সুযোগ পেয়েছি। তাই শাওনের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা সেই দায়িত্ব থেকে পিছপা হব না।”
কবর জিয়ারত শেষে শাওনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের জন্য শান্তি ও ধৈর্য কামনা করেন উপস্থিত নেতাকর্মীরা।

