ডেস্ক রিপোর্ট:
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার খরচ ও জামানতের অঙ্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থীর আধিক্যে লাগাম টানতে ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য প্রার্থীর জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। জামানত ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রেও কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ না পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
বর্তমান বিধিমালায় মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম ভোট পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সংশোধিত বিধিমালায় সেই সীমা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনি অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর বিধানও রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হচ্ছে।
তবে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে না। ফলে আগের মতোই শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত ছাড়াই যে কোনো যোগ্য নাগরিক চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে প্রার্থী হতে পারবেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালার সংশোধনী ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভেটিং হয়ে নির্বাচন কমিশনে এসেছে। আগামী সপ্তাহে এসআরও নম্বর দেওয়ার জন্য সংশোধনীটি আবারও আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সরকারের অন্য চার প্রতিষ্ঠান উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচনেও বিধিমালায় পরিবর্তন আনার প্রস্তুতি চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পৃথক নির্বাচনি বিধিমালাও আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

