অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে নারায়ণগঞ্জের জনজীবন। টানা কয়েকদিনের ভ্যাপসা গরম আর তীব্র রোদে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জেলার সাধারণ মানুষ। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ বাড়ছে, দুপুরে তা রীতিমতো অসহনীয় হয়ে উঠছে। এর মধ্যে বৃষ্টির দেখা না মেলায় জনমনে বাড়ছে অস্বস্তি।
সোমবার (১ জুন) নারায়ণগঞ্জে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। তবে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি। আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়ে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেটি কবে নাগাদ স্বস্তি এনে দেবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
শহরের চাষাঢ়া, দুই নম্বর রেলগেট, বঙ্গবন্ধু সড়ক, ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগের হাতেই ছাতা বা পানির বোতল। রিকশাচালক, শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
ফতুল্লার এক বাসিন্দা বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে গরমে টেকা দায়। মনে হচ্ছে একটু বৃষ্টি হলেই বাঁচি।”
আবহাওয়াবিদদের মতে, জুন মাসজুড়েই নারায়ণগঞ্জে গরমের পাশাপাশি দফায় দফায় বৃষ্টি থাকতে পারে। মাসজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়লেও বৃষ্টির আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাপমাত্রা ও ভ্যাপসা গরম আরও কিছুটা বাড়তে পারে।
এদিকে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছে নারায়ণগঞ্জবাসী। অনেকেরই প্রত্যাশা, এক পশলা স্বস্তির বৃষ্টি নামলেই কিছুটা হলেও কমবে এই অস্বস্তিকর গরমের তীব্রতা।

